জাসদকে এবার খালেদার আক্রমণ

0
365

গুম-খুন নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের সমালোচনা করতে গিয়ে তাদের জোটসঙ্গী জাসদকেই দায়ী করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। জাসদকে নিয়ে তাদের জোট শরিক আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে মঙ্গলবার এক ইফতার অনুষ্ঠানে জাসদকে নিয়ে বক্তব্য আসে বিএনপি চেয়ারপারসনের।

Khaleda Zia the mail bd

জাসদকে ইঙ্গিত করে খালেদা বলেন, “এই দলের লোকজন তখন আওয়ামী লীগের লোকজনকে খুন করত, গুম করত। তাদের নেতার সম্পর্কে কী খারাপ ভাষায় বক্তব্য দিত, যে খারাপ ভাষা ব্যবহার করত, অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করত!

“সেগুলোকে এখন হাসিনা ভুলে গিয়ে নিজের দলের লোকজনকে মূল্যায়ন না করে এই খুনি-অত্যাচারীদের মূল্যায়ন করছে। তার ফলেই দেশের এই অবস্থা হচ্ছে।”

“তাদের (সরকার) মধ্যে আসল সব খুনিরা রয়েছে। তাদের দলে এমন সব লোক রয়েছে, তারা অনেক অভিজ্ঞ, অনেক আগে থেকেই তারা গুম-খুন করে এসেছে,” বলেন খালেদা।

তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ যখন এক সঙ্গে স্বাধীনতা যুদ্ধে ছিল, এরাই কিন্তু আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল। বিএনপির জন্মও তখন হয়নি।”

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরপরই ছাত্রলীগের বিভক্তি থেকে আওয়ামী লীগের একটি অংশ ‘বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের’ স্লোগান দিয়ে জাসদ গঠন করে বঙ্গবন্ধু সরকারের বিরোধিতায় নামে।

তখন আওয়ামী লীগ সরকার গঠিত রক্ষী বাহিনী ও জাসদের সামরিক শাখা গণবাহিনীর সংঘাতে অনেক প্রাণ ঝরেছিল।

পঁচাত্তরে সেনাবাহিনীর একটি দল বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর টালমাটাল অবস্থায় সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে বন্দি করে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খালেদ মোশাররফ অভ্যুত্থান ঘটালে ৭ নভেম্বর জাসদের উদ্যোগে সেনাবাহিনীতে পাল্টা অভ্যুত্থানে মুক্ত হন জিয়া।

ওই অভিযানে নেতৃত্বদাতা জাসদের সামরিক শাখার অধিনায়ক অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল আবু তাহেরকে পরে জিয়া সামরিক আদালতে বিচারের মাধ্যমে ফাঁসিতে ঝোলান। সেটা তাহেরকে ‘ঠাণ্ডা মাথায় হত্যা’ ছিল বলে পরে হাই কোর্টের রায়ে মন্তব্য করা হয়।

পরে ওই জাসদ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটে যুক্ত হয় এবং বর্তমানে ১৪ দলীয় জোটেও দলটি রয়েছে। জাসদের তখনকার সামরিক শাখার উপ-প্রধান হাসানুল হক ইনু দলটির সভাপতি হয়ে মন্ত্রী হিসেবে রয়েছেন শেখ হাসিনার বর্তমান সরকারে।

তথ্যমন্ত্রী হিসেবে জাসদ সভাপতি ইনু বিএনপির সমালোচনামুখর। তিনি প্রায়ই খালেদা জিয়াকে ‘জঙ্গি নেত্রী’ আখ্যায়িত করেন, যার জন্য তাকে ‘অপপ্রচারমন্ত্রী’ বলেন বিএনপি নেতারা।

এরমধ্যেই সোমবার ছাত্রলীগের এক অনুষ্ঠানে সৈয়দ আশরাফ বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্র তৈরির জন্য জাসদকে দায়ী করে বলেন, তাদের একজনকে মন্ত্রী করার জন্য আওয়ামী লীগকে আজীবন প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে।

তার ওই বক্তব্য ‘ব্যক্তিগত মত’ বলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ওবায়দুল কাদের প্রতিক্রিয়া জানালেও আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
তার মধ্যেই বসুন্ধরা কনভেনশন সিটিতে বিএনপি সমর্থক প্রকৌশলীদের সংগঠন ‘অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ-এ্যাব’ এর ইফতার অনুষ্ঠানে খালেদার বক্তব্য এল।

বিএনপি চেয়ারপারসন ‘সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের উত্থান’ ঘটিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার ‘ষড়যন্ত্র’র জন্য আওয়ামী লীগকেই দায়ী করেন।

একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটলেও খুনিরা ধরা না পড়ার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “এই মৃত্যৃ সম্পর্কে সে (শেখ হাসিনা) বলেছে সে জানে। তাহলে কেন তাদের ধরছে না?

 

এ্যাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রকৌশলী আ ন হ আখতার হোসেইন, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হাছিন আহমেদ ইফতার অনুষ্ঠানে ছিলেন।

বিএনপি নেতাদের মধ্যে ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মাহবুবুর রহমান, নজরুল ইসলাম খান, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, আবদুল্লাহ আল নোমান, আলতাফ হোসেন, সেলিমা রহমান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, খন্দকার মাহবুব হোসেন,আহমেদ আজম খান, রুহুল আলম চৌধুরী, জহুরুল ইসলাম, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন, শাহ আবু জাফর, আনোয়ার হোসেইন প্রমুখ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, অধ্যাপক সদরুল আমিন, ড্যাব নেতা এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সম্মিলিতি পেশাজীবী পরিষদের আহ্বায়ক রুহুল আমিন গাজী, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, সাবেক মহাসচিব এম এ আজিজ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতা আবদুল হাই শিকদার, সৈয়দ আবদাল আহমেদ, কাদের গনি চৌধুরী, শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়া ছিলেন অনুষ্ঠানে।

মহসিন আলী, খন্দকার রিয়াজউদ্দিন আহমেদ, শফিউল আলম তালুকদার, মিয়া মো. কা‌ইয়ুম, আবদুল হালিম মিঞা, রিয়াজুল ইসলাম রিজু, জসিমউদ্দিন আহমেদসহ ৮ শতাধিক প্রকৌশলী ইফতারে অংশ নেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here