28 C
Dhaka
বুধবার, ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৩

সারা দেশে সাঁড়াশি অভিযানে আটক কয়েকশ

যা যা মিস করেছেন

জঙ্গি দমনে দেশজুড়ে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান শুরুর পর প্রথম দিনে বিভিন্ন জেলা থেকে কয়েকশ ব্যক্তিকে আটকের খবর এসেছে, যাদের মধ্যে জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামিরাও রয়েছেন। পুলিশ সদরদপ্তর বলছে, শুক্রবার ভোর থেকে শুরু হওয়া এই অভিযান আগামী সাত দিন চলবে।

police crackdown the mail bd

চট্টগ্রামে জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারের স্ত্রী খুন হওয়ার পর বৃহস্পতিবার পুলিশ সদর দপ্তরে আইজিপি এ কে এম শহীদুল হকের সভাপতিত্বে এক বৈঠকে এই ‘সাঁড়াশি অভিযান’ পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়।

এর অংশ হিসেবে রাজধানী ঢাকাতেও রাস্তার মোড়ে মোড়ে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। ঢাকার পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া সকাল থেকে ‘অনেককে; আটকের কথা জানালেও সুনির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা বলেননি।

শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে, সারা দেশে আটকদের মধ্যে শেরপুরে জঙ্গি সংগঠন জেএমবির এক সদস্য ছাড়াও জামায়াত-শিবিরের অনেক কর্মী রয়েছেন। আটক বাকিরা বিভিন্ন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে পলাতক ও পরোয়ানাভুক্ত আসামি এবং সন্দেহভাজন।

শেরপুরে বিশেষ সাঁড়াশি অভিযানে এক জেএমবি এক সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। আটক মারুফ হাসান রনি (২৫) শেরপুর শহরের নওহাটা মহল্লার মনসুর আলীর ছেলে। শেরপুর সদর থানার ওসি নজরুল ইসলাম জানান, শুক্রবার নাশকতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে রনিকে আটক করা হয়েছে।

তার বিরুদ্ধে জেএমবির কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত অভিযোগে এবং সন্ত্রাস বিরোধী আইনে ২০০৫ এবং ২০১০ সালে করা মামলা রয়েছে। নতুন করে আটকের পর সদর থানায় তার বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে পুলিশ কর্মকর্তা নজরুল।

 

ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ আকবর আলী জানান, অভিযানে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীর চারজনসহ মোট ২৭ জনকে আটক করা হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর চারজনকে আটক করা হয় মহেশপুর উপজেলা থেকে। অন্যরা বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামি বলে জানান পুলিশ সুপার।

 

দিনাজপুরের পুলিশ কন্ট্রোল রুমে দায়িত্বরত কনস্টেবল মোশাররফ হোসেন জানান, জেলার ১৩ উপজেলা থেকে জামায়াত-শিবিরের দুই কর্মীসহ ১০০ জনকে আটক করা হয়েছে দুপুর পর্যন্ত। জামায়াত-শিবিরের দুই কর্মী ছাড়া অন্যরা বিভিন্ন মামলার আসামি বলে তিনি জানান।

 

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়নাল আবেদীন জানান, শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত জেলার সাত থানা থেকে জামায়াত-শিবিরের ছয় নেতা-কর্মীসহ মোট ৬৭ জনকে তারা আটক করেছেন। সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের এসআই কামাল হোসেন বলেন, তার জেলায় শুক্রবার সকাল থেকে ৩৫ জনকে আটক করা হয়েছে।

 

রাজশাহীতে আটক হয়েছেন ৩৪ জন। বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত তাদের আটক করা হয়। রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও রাজপাড়া থানা জোনের সহকারী কমিশনার ইফতে খায়ের আলম বলেন, নগরীতে মোট ৩১ জন আটক হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৫ জন বিভিন্ন মামলার আসামি। অপর ১৬ জন মাদক বিক্রেতা ও মাদকসেবী। বিশেষ অভিযানের প্রথম দিনে জঙ্গি সংশ্লিষ্ট কাউকে রাজশাহীতে পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

রাজশাহীর অতিরিক্তি পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ জানান, দুর্গাপুরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে হত্যা মামলার দুই আসামি ও পুঠিয়ায় সাজাপ্রাপ্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছেন তারা।

 

মাগুরায় আটক হয়েছেন ২৪ জন। বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে তাদের আটক করে পুলিশ। পুলিশ সুপার এহসান উল্লাহ জানান, জেলার চার উপজেলা থেকে ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা বিভিন্ন মামলার আসামি। এছাড়া ১২টি মোটর সাইকেল জব্দ করে চালকদের বিরুদ্ধে মোট ১৭৯টি মামলা করা হয়েছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

 

পুলিশ সুপারের দায়িত্বে থাকা সালেহ মোহাম্মদ তানভীর বলেন, জেলার ১২টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অভিযানের প্রথম দিন দুপুর পর্যন্ত ৬৮ জনকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে বিভিন্ন মামলার আসামিও রয়েছেন বলে জানান তিনি।

 

সাঁড়াশি অভিযানের অংশ হিসেবে সিলেট জেলা ও মহানগরের বিভিন্ন স্থান থেকে মোট ৬১ জনকে আটক করার খবর জানিয়েছেন পুলিশ। জেলা পুলিশের এএসপি ( মিডিয়া) সুজ্ঞান চাকমা জানান, জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে তারা ৫১ জনকে আটক করেছেন, যারা বিভিন্ন মামলার আসামি।

আর মহানগর এলাকা থেকে ১০ জনকে আটক করা হয়েছে বলে নগর পুলিশের এডিসি (মিডিয়া) রহমত উল্লাহ জানিয়েছেন।

 

দেশব্যাপী জঙ্গি দমনে র‍্যাব ও পুলিশের বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে নাটোরে ২৭ জনকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাত থেকে জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৪০টি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়েছে বলে জানান নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুনশী শাহাবুদ্দিন।

এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, আটকদের মধ্যে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত ও পলাতক আসামি ছাড়াও সন্দেহভাজন অনেকে রয়েছে। এছাড়া অভিযানে জেলার বিভিন্ন স্থানে চেক পোস্ট বসিয়ে ৪০টি মোটর সাইকেল জব্দ করা হয় অতিরিক্ত যাত্রী, বৈধ কাগজপত্র না থাকা ও অনিয়ন্ত্রিত ভাবে চলাচল করার অভিযোগে।

 

সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বিরোধী অভিযানে নড়াইল সদর উপজেলা, লোহাগড়া, কালিয়া ও নড়াগাতি থেকে দুই জামায়াত কর্মীসহ ৪৭ জনকে আটক করার কথা জানিয়েছেন জেলার জেলা পুলিশ সুপার সরদার রকিবুল হক। এছাড়া অভিযানে জেলার ধুন্দা এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয় বলেও জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।

 

সাঁড়াশি অভিযানের শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মোট ৩৮ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম এ মাসুদ জানিয়েছেন। ফেনীতে এক ছাত্রদল নেতাসহ ২৫ জনকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত জেলার ছয় উপজেলায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয় বলে জানান ফেনীর অতিরিক্ত পুরিশ সুপার শামছুল আলম।

আটকদের মধ্যে ছাত্রদল নেতা শেখ ফজলুল মজদি জুটন (৩০) ছাগলনাইয়া উপজলোর ছাগলনাইয়া মহামায়া ইউনয়িন ছাত্রদলের সভাপতি। বাকিরা নাশকতা, মাদক ও ছিনতাই ও বিস্ফোরকসহ বিভিন্ন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত পলাকত ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি।

 

বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে শুক্রবার পর্যন্ত পুলিশের বিশেষ অভিযানে গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের পূর্ব বেলকা গ্রামের ওসমান আলী একজন জামায়াতকর্মী। বাকিরা বিভিন্ন মামলায় আসামি বলে সহকারী পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ জানিয়েছেন।

More articles

সর্বশেষ