বাঁশখালীর সংসদ সদস্যর বিরুদ্ধে মামলা

0
348

Bashkhali mp the mail bd

উপজেলা নির্বাচনী কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনায় চট্টগ্রামের বাঁশখালীর সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) এ কে এম হাফিজ আখতার জানান, শুক্রবার দুপুরে বাঁশখালী থানায় এ মামলা দায়ের করা হয়। মারধরের শিকার উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন।

মামলার অপর দুই আসামি হলেন, সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) ও বাহারছড়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী ‍তাজুল ইসলাম এবং ওলামা লীগ সভাপতি মাওলানা আকতার হোসাইন।

তিনি বলেন, ‘উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বাদি হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখ করে ও ৭-৮ জনকে অজ্ঞাত আসামি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩৫৩/৩৪৩/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।’

এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে নির্বাচন কমিশন থেকে মৌখিকভাবে এবং বিকেল পাঁচটার পর লিখিতভাবে মামলা করার অনুমতি পান নির্বাচন কর্মকর্তা জাহেদুল ইসলাম। যার অনুলিপি শুক্রবার সকালে পৌঁছে বাঁশখালী থানায়।

উল্লেখ্য, বুধবার (০১ জুন) দুপুরে বাঁশখালীতে নির্বাচন কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম মারধরের শিকার হওয়ার পরপরই বুধবার বিকালে এমপি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্তের কথা গণমাধ্যমকে জানান ইসি সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম।

ওই সময় তিনি বলেন, ‘উপজেলার নির্বাচন কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলামকে মারধরের অভিযোগে মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা প্রচলিত আইনে এই মামলা করবেন। এছাড়া এ ঘটনার পর সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন নির্বাচনের পরিবেশ বিনষ্ট হওয়ায় বাঁশখালী উপজেলার সব ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে।’

অভিযোগ উঠেছে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে পছন্দ মতো প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার ও এজেন্ট নিয়োগ না দেয়ায় উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলামকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন বাঁশখালীর সাংসদ মোস্তাফিজুর রহমান ও তার অনুসারীরা। বুধবার (১ জুন) বেলা ১২টার দিকে উপজেলা নির্বাচন অফিসে এ ঘটনা ঘটে।

তবে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও সাংসদ মোস্তাফিজুর রহমান এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ‘ওই ধরনের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। সব মিথ্যা কথা।’ এমনকি গতকাল বৃহস্পতিবার তার অনুসারীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক এই নেতাকে জামায়াত শিবিরের ক্যাডার অাখ্যা দিয়ে উপজেলায় মিছিল করেছে।

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ৪ নম্বর বাহারছড়া ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যানপ্রার্থী তাজুল ইসলাম ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা (প্রিজাইডিং অফিসার) নিয়োগের জন্য তাকে একটি তালিকা দিয়েছিলেন। তিনি ওই তালিকা অনুযায়ী সবাইকে নিয়োগ দিতে পারেননি। তাই ক্ষিপ্ত হয়ে বুধবার সকালে সাংসদ মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী তাকে ইউএনও কার্যালয়ে ডেকে পাঠান এবং জানতে চান তার তালিকা বাস্তবায়ন হয়নি কেন। এ নিয়ে কথা বলার এক পর্যায়ে তার উপর চড়াও হন সাংসদ। তিনি তাকে কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। এ সময় সাংসদের সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজনও তাকে মারধর করেন।

জাহিদ জানান, এ সময় ইউএনও তার কার্যালয়ে ছিলেন না। তবে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী তাজুল ইসলাম এবং স্থানীয় ওলামা লীগ নেতা মাওলানা আক্তার সেখানে ছিলেন।

স্থানীয়রা জানান, তাজুল ইসলাম সাংসদ মোস্তাফিজের এপিএস। বাহারছড়া ইউনিয়নে তাজুল ইসলাম ছাড়াও আওয়ামী লীগের দুইজন বিদ্রোহী প্রার্থী এবং ১জন বিএনপি প্রার্থী রয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here