23 C
Dhaka
বুধবার, ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৩

সেই প্রধান শিক্ষককে এবার বরখাস্ত করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ

যা যা মিস করেছেন

 শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনায় দোষীদের শাস্তি দাবিতে প্রতিবাদের মধ্যে উল্টো ওই শিক্ষকের চাকরি হারানোর খবর এলো।

শিক্ষক নিয়োগের নামে অর্থ গ্রহণ, স্কুলে অনুপস্থিত ও দেরি করে আসার কারণ দেখিয়ে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার সকালে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সেই প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত বিষয়টি নিশ্চিত করলেন।

শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত জানান, বরখাস্তের চিঠিটি হস্তগত হয়েছে। চারটি সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করে সোমবার (১৬) বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ফারুকুল ইসলামের স্বাক্ষর করা ওই চিঠিতে বরখাস্তের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।

চিঠিতে শ্যামল কান্তি ভক্তকে উদ্দেশ করে লেখা হয়, ‘আপনার বিরুদ্ধে আনিত নিম্ন বর্ণিত অভিযোগসমূহ অদ্যকার পিয়ার সাত্তার লতিফ স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভায় উত্থাপিত হয়।
১। আপনি ছাত্রদের উপর শারীরিক নির্যাতন করেন।
২। বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে চাকুরী দেওয়ার নাম করে অর্থ গ্রহণ করেছেন।
৩। ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করেছেন।
৪। বিদ্যালয়ের ছুটি ব্যতিরকে অনুপস্থিত থাকেন এবং প্রায়ই দেরি করে বিদ্যালয়ে আসেন।

পূর্বেও এসব অভিযোগ আপনার বিরুদ্ধে উত্থাপিত হয়েছে এবং আপনাকে বহুবার সতর্ক করা হয়েছে। কিন্তু আপনি এরূপ অবৈধ কর্মকাণ্ড থেকে বিরত হননি। তাই ১৩ মে ম্যানেজিং কমিটির সর্ব সম্মত সিদ্ধান্ত মোতাবেক আপনাকে পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।’

এদিকে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বরখাস্ত করার চিঠি পাওয়ার পরও প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করে বলেন,‘এসবের কোনোটাই সত্য না। এসব কিছুর পক্ষে ছিলাম না বলেই আজ এতো আপমান অপদস্ত হতে হয়েছে।’

বরখাস্তের বিষয় জানতে চেয়ে ফারুকুল ইসলামের মোবাইল ফোনে বার বার কল দিলে সেটা বন্ধ পাওয়া যায়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।

বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মৌসুমি হাবিব জানান, বিষয়টি স্কুল কর্তৃপক্ষের ম্যানেজিং কমিটির বিষয়।

এর আগে ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে কটূক্তি করার অপবাদে গত শুক্রবার (১৩ মে) পিয়ার সাত্তার লতিফ জামান উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে শত শত মানুষের সামনে প্রবীণ ওই শিক্ষককে কান ধরে উঠবস করতে বাধ্য করেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) এ কে এম সেলিম ওসমান। শুধু তাই নয়, জনতার উদ্দেশে হাতজোড় করে ক্ষমা চাইতেও নির্দেশ দেন তিনি।

শিক্ষককে অপদস্ত করার সময় মোবাইল ও ভিডিও ক্যামেরায় সে দৃশ্য ধারন করা হয়। পরে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) ছেড়ে দেয়া হয়। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, সেলিম ওসমানের নিজে দাঁড়িয়ে থেকে ওই শিক্ষককে কান ধরে তিনবার উঠবস করাচ্ছেন। আর এই দৃশ্য দেখে সামনের জনতা উল্লাস করছে। অনেকেই শিস দিচ্ছে। এর মধ্যে সমস্বরে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিতেও শোনা যায়।

এমপি সেলিম ওসমানের সামনে প্রধান শিক্ষককে কান ধরে উঠবস করে অপদস্ত করার ঘটনায় গত সোমবার (১৬) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বিব্রতবোধ করেন। তিনি বলেন, ‘একজন শিক্ষকের সঙ্গে এ আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়।’ পরে তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করার কথা উল্লেখ করেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিভিন্নজনের সঙ্গে কথা বলেন। পরে তারা প্রধান শিক্ষককে অপদস্ত করার নেপথ্যে ষড়যন্ত্রের তথ্য পান। এর মধ্যে একটি হলো- মসজিদের মাইকে মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে পরিস্থিতিকে উসকে দেয়া। ঘটনাস্থলে যাওয়া বন্দর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী হাবিবও এমন তথ্য জানিয়ে বলেছেন, আহত স্কুল ছাত্রের অভিযোগে ধর্মীয় অনুভূতির বিষয়টি উল্লেখ ছিল না। এছাড়া ম্যানেজিং কমিটির বিরোধের বিষয়ে তারা তথ্য পেয়েছেন।

More articles

সর্বশেষ

২ কেজি গাঁজাসহ আটক ২