28 C
Dhaka
বুধবার, ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৩

নিজামীর রিভিউ আবেদন খারিজ করেছে আপিল বিভাগ

যা যা মিস করেছেন

Nizami the mail bd

মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের চূড়ান্ত রায় পুনর্বিবেচনায় জামায়াত আমির মতিউর রহমান নিজামীর আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের কার্যতালিকায় নিজামীর রিভিউ আবেদনটি ১ নম্বরে ছিল।

এটি ছিল যুদ্ধাপরাধী নিজামীর শেষ আইনি সুযোগ। আবেদনটি খারিজ হওয়ায় তার সামনে কেবল রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়ার সুযোগ রইল।

নিয়ম অনুযায়ী, রিভিউ নিষ্পত্তির আগে দণ্ড কার্যকর করা যায় না। রিভিউ খারিজ হয়ে গেলে সেই রায়ের অনুলিপি কারাগারে যাবে এবং কারা কর্তৃপক্ষ সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আসামিদের ফাঁসি কার্যকর করবে।

প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এক শব্দের এই রায় ঘোষণা করেন। বেলা সাড়ে ১১টায় এজলাসে এসে প্রধান বিচারপতি শুধু বলেন, “ডিসমিসড”।

বেঞ্চের অপর তিন সদস্য হলেন- বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রিভিউয়ের পূর্ণাঙ্গ রায়ের প্রত্যায়িত অনুলিপি শিগগিরই ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।

সাবেক বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের মন্ত্রী নিজামী এখন রয়েছেন গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে।  তিনি হলেন পঞ্চম যুদ্ধাপরাধী, যার সর্বোচ্চ সাজার রায় কার্যকরের পর্যায়ে এসেছে।

আপিল বিভাগের এই বেঞ্চ গত ৬ জানুয়ারি নিজামীর আপিলের রায় ঘোষণা করে। ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেওয়া প্রাণদণ্ডের সাজাই তাতে বহাল থাকে।

জামায়াত আমির নিজামী একাত্তরে ছিলেন দলটির ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘের নাজিমে আলা বা সভাপতি এবং সেই সূত্রে পাকিস্তানি বাহিনীকে সহযোগিতার জন্য গঠিত আল বদর বাহিনীর প্রধান।

তার পরিকল্পনা, নির্দেশনা ও নেতৃত্বেই যে আলবদর বাহিনী বুদ্ধিজীবী হত্যার নীলনকশা বাস্তবায়ন করেছিল- এই মামলার বিচারে তা প্রমাণিত হয়।

সুপ্রিম কোর্ট ১৫ মার্চ আপিলের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করলে ট্রাইব্যুনাল মৃত্যু পরোয়ানা জারি করে, পর দিন তা পড়ে শোনানো হয় যুদ্ধাপরাধী নিজামীকে।

এরপর আইনে নির্ধারিত ১৫ দিন সময় শেষ হওয়ার আগেই গত ২৯ মার্চ আপিলের রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করেন নিজামী। সেই রিভিউ আবেদনের ওপর মঙ্গলবার প্রায় আড়াই ঘণ্টা শুনানি করে প্রধান বিচারপতি নেতৃত্বাধীন আপিল রায় প্রদানকারী বেঞ্চ।

জামায়াত আমিরের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, সঙ্গে ছিলেন এস এম শাহজাহান। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম যুক্তি উপস্থাপন করেন, সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মোমতাজ উদ্দিন ফকির ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ।

আপিলের রায়ে আদালত বলেছিল, অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় প্রাণদণ্ডই হতে পারে মতিউর রহমান নিজামীর একমাত্র সাজা।

রিভিউ খারিজের মধ্য দিয়ে সেই সাজার সিদ্ধান্তই বহাল রাখল সর্বোচ্চ আদালত। প্রধান বিচারপতির ‘ডিসমিসড’ শব্দটি উচ্চারণের মধ্য দিয়ে পরিসমাপ্তি ঘটল যুদ্ধাপরাধী নিজামীর বিচার প্রক্রিয়ার।

More articles

সর্বশেষ