‘বয়স হয়ে গেছে’- এ দীর্ঘশ্বাস আর নয়

0
411

Life style the mail bd

কয়েকটা পাকা চুল। চেহারায়ও চলে এসেছে হালকা পরিবর্তন। জীবনের ৪০ বছর পর এসে এ রূপটি যেন অনেকটা অপরিচিতই লাগে।

‘বয়স হয়ে গেছে’—চল্লিশোর্ধ্ব নারীদের এমন দীর্ঘশ্বাস শোনা যায় প্রায়ই। জীবনের এ সময়টাতে থেমে যেতে চায় যেন অনেক কিছুই। সাজতে সংকোচ হয়। নিজের যত্ন নিতেও যেন চলে আসে অনীহা। বরং অন্যান্য বয়সের মতো এ বয়সটিরও আছে আলাদা একটা সৌন্দর্য। একটু পরিচর্যা নিলেই যা পাবে পরিপূর্ণতা।

পরিচর্যায় পরিপূর্ণতা:
প্রতিটি বয়সেরই আছে নিজস্ব একটি ছন্দ। থাকে কিছু পরিবর্তন। কখনো বা তা ইতিবাচক, কখনো তা নেতিবাচক। বয়সের সঙ্গে অভিমান না করে নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমেই বয়স রোধ করা সম্ভব। গাজর, ভিটামিন সি, শাকসবজিসহ অ্যান্টি অক্সিজেনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত এ সময়। নিয়মিত দুধ খাওয়া দরকার। কারণ, বয়সের সঙ্গে সঙ্গে হাড়ের ক্ষয়রোধ করবে এটি। চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট নেওয়া উচিত। খাবারের ক্ষেত্রে একটু সতর্ক হয়ে যেতে হবে। রাতের বেলা হালকা-জাতীয় খাবার খেতে হবে। চর্বি-জাতীয় খাবারের পাশাপাশি বাজারের পানীয়গুলো কম খাওয়া উচিত।

ব্যায়ামেই সুস্থতা:
চল্লিশের পর অনেক নারীর ভেতরেই ওজন বাড়ার প্রবণতা দেখা যায়। এটি রোধ করতে হবে। মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার জন্য নিয়মিত প্রতিদিন এক ঘণ্টা করে হাঁটাতে হবে। এ সময় শারীরিক সুস্থতার চেয়ে বেশি দরকার মানসিক শান্তি। খাবার খাওয়ার পাশাপাশি সেটাকে বার্ন করাও জরুরি। হাঁটা, যোগব্যায়াম, সাঁতার কাটা,মেডিটেশনে যা সম্ভব ।

ত্বকের প্রতি যত্ন:
চল্লিশের পর ত্বকে কিছুটা সমস্যা দেখা যায়। শরীর অক্সিডাইজ হয়ে যায়। চামড়া ঝুলে যাওয়া, চেহারায় ছোপ ছোপ দাগ পড়ার মতো ঘটনাগুলো এ কারণেই ঘটে। একটু নিয়মিত যত্ন দরকার এ জন্য। ‘বডি টক্সিন বের করার জন্য ডিটক্সিজাইন ম্যাসাজ অনেক জরুরি। মাসে দুবার এটি করা যেতে পারে। এটি বাসায়ও করা যায়। গরম পানি দিয়ে স্নান করার সময় তিলের তেল মিশিয়ে নিলেই হবে। মাসে দুবার পুরো শরীরটা স্ক্রাবিং করা উচিত। লোমকূপের গোড়া পরিষ্কার হয়ে যাবে এবং শরীরের বর্জ্য পদার্থ বের হয়ে যাবে’।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকাটা সবচেয়ে বেশি জরুরি। প্রতিদিন দিনে দুবার মুখ ধুতে হবে। এবং সেটি সাবান দিয়ে অবশ্যই নয়। যাঁরা বাইরে কাজ করেন, তাঁদের চুলে নিয়মিত শ্যাম্পু করা উচিত। এতে ত্বক পরিষ্কারও হয় এবং ব্ল্যাকহেডসও চলে যায়।’ রাতের বেলায় মুলতানি মাটি এবং চন্দনের গুঁড়া পানির সঙ্গে মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে রাখেন কিছুক্ষণ। ত্বক অনেকাংশেই মসৃণ থাকে বলে।
মাথায় সপ্তাহে এক দিন তেল দিয়ে প্যাক লাগানো উচিত।

জবের সঙ্গে গাজর এবং শসার রস দিয়ে সপ্তাহে দু-তিনবার লাগালে ত্বকে টানটান ভাব চলে আসবে। কাঠবাদাম, টমেটো, তরমুজ, বাঙ্গির রস অ্যান্টি এজিং হিসেবে কাজ করে। খাওয়ার সময় একটু রস চট করে মুখে মেখে নিতে পারেন। প্রতিদিন একটা করে আমলকী খেলে চুলের জন্য ভালো হবে। পাশাপাশি আমলকীর তেল মাথায় লাগালেও ভালো ফল পাওয়া যাবে। আমলকী, হরীতকী, বহেড়া, মেথি, টক দই মিশিয়ে মাথায় লাগাতে পারেন সপ্তাহে এক দিন। চুল পড়া কমবে।

চুলে মেহেদি ব্যবহারকারীদের জন্য, মেহেদির সঙ্গে কফি এবং লেবুর রস মিশিয়ে নিলে চুলে সুন্দর রং হবে।

এবার সাজ:
চল্লিশ-পঞ্চাশ পেরোনো নারীদের না সাজার প্রবণতাটা দেখা যায় বেশি। বয়স হয়ে গেছে এখন আর কী সাজব—এ ধারণাটি কাজ করে বেশি। কিন্তু এ বয়সেও সাজা যায় ।

সাজটা হচ্ছে মানুষের সৌন্দর্যের বহিঃপ্রকাশ। এ সাজটার একটা বয়সসীমাও আছে। একেক বয়সে একেক ধরনের সাজ দরকার। যখনই চল্লিশ পেরিয়ে যায়, সাজের বিষয়ে কিছুটা সচেতনতা চলে আসে। এ বয়সে একটু গুছিয়ে সাজলেই দেখতে ভালো লাগে। দাওয়াতে গেলে একটু জমকালো সাজ আর বাকিটা সময় হালকা সাজই মানানসই ।

অফিসে যাওয়ার সময় চুল বেঁধে নিতে পারেন। এতে কাজে সুবিধা হবে। খোলা রাখতে চাইলে ক্লিপ দিয়ে চুল আটকে রাখা যায়। চাইলে গুছিয়ে আঁচড়ে ছেড়েও রাখা যায়।

চোখে কাজলের রং কালোতেই বেশি মানাবে এ সময়। ন্যাচারাল রঙের আইশ্যাডো ছাড়াও গোল্ডেন, কপারের বিভিন্ন শেড ব্যবহারে ভালো লাগবে। লিপস্টিকের ক্ষেত্রে দাওয়াতের সময় গাঢ় রং এবং দিনের বেলায় হালকা শেড ভালো লাগবে। রং বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও বেছে নেওয়া যাবে বিভিন্ন রং। এতে দেখতে কম বয়সী লাগবে। গাঢ় রং পরতে না চাইলে হালকা শেডের লাল, হলুদ, কমলা, নীল প্রভৃতি রং পরা যায়। উজ্জ্বলতা চলে আসবে চেহারায়।

টুকিটাকি:
এ বয়সে যতটা সম্ভব কম রাগ করুন। কাজের মধ্যে থাকতে হবে। দরকার হলে কাউনসেলিং করুন।
সকালে ত্রিফলার পানি পান করা উচিত। কোষ্ঠকাঠিন্য হতে দেওয়া যাবে না। নিয়ম মেনে চলা জীবন দরকার এ সময়। চল্লিশোর্ধ্ব নারীদের জন্য জাদুর মতো কাজ করবে তিনটি বিষয়—সুস্থ দেহ, প্রশান্ত মন ও কর্মব্যস্ত জীবন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here