বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন কেন অবৈধ নয়: হাই কোর্ট

0
769

সোমবার বিচারপতি সৈয়দ মো. দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি এ কে এম শাহিদুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

গত ৯ মার্চ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এস এম এনামুল এ সংক্রান্ত একটি রিট করেন।

সোমবার রিটের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।  এতে রিটের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ ওয়াই মশিউজ্জামান ও ব্যারিস্টার মুক্তাদির রহমান শুনানিতে অংশ নেন ।

রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল অরবিন্দ কুমার রায় ও জেসমিন সুলতানা।  শুনানি শেষে রুল জারি করেন আদালত।

এতে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, টেলিকম সচিব, বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান ও মহাপরিচালক এবং ৬টি মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন, রবি, এয়ারটেল, বাংলালিংক, টেলিটক ও সিটিসেলকে জবাব দিতে বলা হয়েছে।

রুল শুনানির জন্য হাইকোর্ট ২৪ মার্চ পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন বলে জানিয়েছেন ব্যারিস্টার মুক্তাদির রহমান।

তিনি জানান, গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর বিটিআরসি বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধনের জন্য ছয়টি মোবাইল কোম্পানির প্রতি সার্কুলার জারি করে।

মোবাইল কোম্পানিকে দিয়ে এটা বিটিআরসি করতে পারে না।  সংবিধানের ৪৩ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘ রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা, জনসাধারণের নৈতিকতা বা জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধা-নিষেধ সাপেক্ষে প্রত্যেক নাগরিকের- (ক) প্রবেশ, তল্লাশি ও আটক হইতে স্বীয় গৃহে নিরাপত্তা লাভের অধিকার থাকিবে; এবং (খ) চিঠিপত্রের ও যোগাযোগের অন্যান্য উপায়ের গোপনীয়তা রক্ষার অধিকার থাকিবে।’

আইনজীবীর দাবি, টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০০১ এর ৩১ ধারার মধ্যে এটা পড়ে না।  তাই সংবিধান ও এ আইন মতে, বায়োমেট্রিক পদ্ধতি বেআইনি।

ব্যারিস্টার মুক্তাদির  বলেন, বিটিআরসি মাত্র ২.৯৮ শতাংশ সিম নিয়ন্ত্রণ করে।  বাকি ৯৭.০২ শতাংশ বিদেশিরা নিয়ন্ত্রণ করে।

সুতরাং এখানে আমাদের নিরাপত্তা কী? আমরা বিদেশী বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ দিয়েছি, যেখানে আঙুলের ছাপ অবৈধ ঘোষণার সিদ্ধান্ত রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বর থেকে সিম নিবন্ধনে আঙ্গুলের ছাপ গ্রহণ বাধ্যতামূলক করার গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আড়াই মাসে দেড়কোটিরও বেশি মানুষের আঙ্গুলের ছাপ সংগ্রহ করে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো।

আগামী এপ্রিলের মধ্যেই আরো ১১ কোটির বেশি মানুষের আঙুলের ছাপ নিয়ে সিম নিবন্ধন করা হবে।  তবে মোবাইল ফোনের সিম ব্যবহার করতে বিশ্বের প্রায় কোনো দেশেই আঙুলের ছাপ জমা দিতে হয় না।

সর্বপ্রথম পাকিস্তানে চালুর পর সৌদি আরবেও সম্প্রতি এই ব্যবস্থা চালু হয়েছে।  পাকিস্তানের আদলে বাংলাদেশে আঙুলের ছাপ জমা নেয়া শুরু হলে সামাজিক মাধ্যমে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রশ্নে বিতর্ক শুরু হয়।

তরুণদের অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, কেন তারা বেসরকারি মোবাইল কোম্পানির ডিভাইসে আঙ্গুলের ছাপ দেবেন এবং এই ছাপের যে অপব্যবহার হবে না তার নিশ্চয়তা কি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here