‘বাক সংযত রাখুন’ প্রধান বিচারপতিকে সুরঞ্জিত

0
461

বিচার বিভাগের ‘কোন্দল’ প্রকাশ্যে এনে উত্তেজনা সৃষ্টির জন্য প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাকে দায়ী করে তাকে কথা ‘কম’ বলার পরামর্শ দিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। অবসরে যাওয়ার পর বিচারকদের রায় লেখা ‘সংবিধান পরিপন্থি’ বলে বক্তব্য দিয়ে প্রধান বিচারপতি অনধিকার চর্চা করেছেন বলেও মনে করছেন বাংলাদেশের শাসনতন্ত্রের অন্যতম এই প্রণেতা।

Shuronjit the mail bd

সোমবার রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে এক আলোচনা সভায় বক্তব্যে প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার বছর পূর্তিতে বিচারপতি এস কে সিনহার বাণীর প্রসঙ্গটি তোলেন সুরঞ্জিত।

গত ১৭ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতির ওই বক্তব্য আসার পর থেকে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে। তার ভিত্তিতে বিএনপি বলছে, অবসরের পরে লেখা তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিলের রায়ও তাহলে অবৈধ।

সুরঞ্জিত বলেন, “সাংবিধানিকভাবে তিনি (প্রধান বিচারপতি) দেশের প্রধান তিনজনের একজন। প্রধান বিচারপতিরা প্রধান বিচার করেন, প্রধান প্রধান কথা বলেন না। এই পদে থেকে সাধারণত প্রধান কথা শোনা যায় না।

“এই পদে থেকে তিনি এমন কিছু কথা বলে ফেলেছেন, যা জাতীয় রাজনীতিতে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। এটা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। এভাবে কথা বলতে বলতে তিনি কোথায় চলে যাচ্ছেন, তার সীমানা থাকছে না।”

বিচারপতি সিনহার বক্তব্যে সংবিধানের সমর্থন নেই বলে দাবি করেন বাহাত্তরের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির অন্যতম সদস্য এবং পঞ্চদশ সংশোধনী সংক্রান্ত সংসদীয় বিশেষ কমিটির কো-চেয়ারম্যান সুরঞ্জিত।

“তিনি এমন কিছু কথা বলেছেন, যা সংবিধানের কোথাও নেই। সংবিধান রচনা করেছি আমি। সংবিধানের কোন জায়গায় লেখা আছে যে বিচারপতিরা অবসরে গেলে রায় লেখা যাবে না? এ কথা সংবিধানের কোথাও লেখা নেই।”

“উনি যা বলেছেন, এটা তো কোনো আইন নয়। উনি যদি মনে করেন, শপথ শেষ হয়ে গেলে আর বিচার দেখতে দেব না, সেটা অবসরে যাওয়ার কতদিন আগ থেকে, জাজমেন্ট ঘোষণা করতে হবে? এটাও আইনে আনতে হবে।”

প্রধান বিচারপতির এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বিচার বিভাগের অন্তঃকোন্দল প্রকাশ্য হয়েছে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের এই সদস্য।

 

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলে প্রধান বিচারপতির সাম্প্রতিক আরেক বক্তব্যেরও প্রতিবাদ জানান ক্ষমতাসীন দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত।

“আপনাকে প্রধান বিচারপতি হিসাবে নিয়োগ দেওয়ার পর রাগ-অভিমান-বিদ্বেষ ভুলে গিয়ে দেশের জন্য, জাতির জন্য কাজ করে যাওয়ার কথা। আর আপনি বলে উঠলেন, আপনার ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হচ্ছে!

“আইনের শাসনের যুগ, আপনারা তো স্বাধীন আলাদা। সংবিধানে স্পষ্ট লেখা রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি এই তিনটি অঙ্গনই একে অপরের পরিপূরক।”

বৃহত্তর সিলেটের বাসিন্দা বিচারপতি সিনহাকে বাক সংযমী হওয়ার পরামর্শ দিয়ে একই অঞ্চলের সংসদ সদস্য সুরঞ্জিত বলেন, “আপনি কথাবার্তা আরও সংযত হয়ে বলুন। এমন কোনো কথা বলবেন না, যা জাতীয় জীবনে-রাজনীতিতে প্রভাব ফেলবে, সংঘাতপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি হবে।

“যত কথা কম বলা যায়। একেবারে বাক সংযত। আপনার এখনও সময় আছে। প্রতিষ্ঠানটির কথা চিন্তা করুন।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here