শেষ হল বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব

0
436

Ijtemar 1st part the mail bd

মুসলিম উম্মাহর উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি, অগ্রগতি এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং ইহকাল ও পরকালের শান্তি কামনা করে রোববার আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে এবারের বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব।  ইজতেমার জন্য গাজীপুর-ঢাকা গাড়ি চলাচলে বিকল্প পথ ধরতে হচ্ছে সবাইকে।

 বেলা ১১টায় মোনাজাত শুরু করেন তাবলিগ জামাতের শীর্ষ মুরুব্বি ও দিল্লির মাওলানা মোহাম্মদ সা’দ।  ২০১৫ সালের বিশ্ব ইজতেমায় সর্বপ্রথম আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন।  

এর আগে ফজরের নামাজের মাধ্যমে শেষ দিনের কর্মসূচি শুরু হয়।  আখেরি মোনাজাত উপলক্ষে ভোর থেকেই শীত উপেক্ষা করে লাখো লাখো মুসুল্লি মহাসড়কে হেঁটে ও ট্রেনে করে টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে এসে সমবেত হন।

 বিপুল সংখ্যক নারী মুসুল্লিও মোনাজাতে অংশ নিতে ইজতেমার আশপাশের সড়কে সকাল থেকেই অবস্থান নেন।  ভোর থেকেই মুসল্লিরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে খবরের কাগজ বিছিয়ে মোনাজাতের জন্য বসে পড়েন।

এ সময় তারা ইসলামের আমল, আকীদা ও দাওয়াত বিষয়ে দেশি-বিদেশি মুসুল্লিদের বয়ান শুনেন। বয়ান করেন ভারতের মুরব্বি ওয়াসেকুল ইসলাম।

এরপর শুরু হয় আখেরি মোনাজাত। প্রায় ২০ মিনিট স্থায়ী এ মোনাজাতে মুসলি্লদের আমিন আমিন ধ্বনিতে পুরো ইজতেমা ময়দান প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। গুনাহ মাফের জন্য আবালবৃদ্ধবনিতার চোখের পানিতে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বঙ্গভবনে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে ইজতেমার আখেরি মোনাজাতে অংশ নেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে বসে বোন শেখ রেহানাসহ নিকটাত্মীয়দের নিয়ে আখেরি মোনাজাতে অংশ নেন।  কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনিও সেখানে ছিলেন।

ময়দানে ঢুকতে না পেরে কয়েক লাখ মানুষ কামাড়পাড়া সড়ক ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে পুরনো খবরের কাগজ, পাটি, সিমেন্টের বস্তা কিংবা পলিথিন বিছিয়ে আখেরি মোনাজাতে অংশ নেন।  আশপাশের বাসা, অফিস, দোকানের ছাদে এমনকি তুরাগ নদীতে নৌকায়ও অনেক মুসলি্ল অবস্থান নিয়ে মোনাজাত করেন।

আখেরি মোনাজাত প্রচারের জন্য গণযোগাযোগ অধিদপ্তর ও গাজীপুর জেলা তথ্য অফিস বিশেষ ব্যবস্থা নেয়।

জেলা তথ্য অফিসার  জানান, গণযোগাযোগ অধিদপ্তর ইজতেমা ময়দান হতে আব্দুল্লাহপুর ও বিমানবন্দর রোড পর্যন্ত এবং গাজীপুর জেলা তথ্য অফিস ইজতেমা ময়দান হতে চেরাগআলী, টঙ্গী রেল স্টেশন, স্টেশন রোড ও আশপাশের অলিগলিতে পর্যাপ্ত মাইক সংযোগের ব্যবস্থা করা হয়।
আখেরি মোনাজাত উপলক্ষে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা জানিয়েছিল জেলা প্রশাসন।

গাজীপুরের পুলিশ সুপার বলেন, আখেরি মোনাজাতে বাড়তি নিরাপত্তার জন্য অন্যান্য দিনের চেয়ে দ্বিগুণ ফোর্স (দুই শিফটের ফোর্স এক শিফটে) মোতায়েন করা হয়।

“প্রায় ১২ হাজার র‌্যাব ও পোশাকধারী পুলিশের পাশপাশি রয়েছে সাদা পোশাকে কয়েক হাজার গোয়েন্দা সদস্য। আকাশ ও নৌপথে রয়েছে র‌্যাবের সতর্ক নজরদারি।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here