কিশোরীটিকে এক বছর ধরে বার বার ধর্ষণ করা হয়

0
406

ভারতের পুলিশ বলছে তারা দিল্লি থেকে এক কিশোরীকে উদ্ধার করেছে, যাকে এক বছর আগে পশ্চিমবঙ্গ থেকে অপহরণ করে বার বার ধর্ষণ করা হয়েছে।

girl rape the mail bd
গত এক বছরে ওই কিশোরীকে দেশের বিভিন্ন শহরে ঘোরানো হয়েছে যেখানে একেক দিনে ১০ থেকে ১৫ জন পর্যন্ত পুরুষ তাকে ধর্ষণ করেছে।
ওই কিশোরীকে এক এইডস আক্রান্ত ব্যক্তি ধর্ষণ করার ফলে কিশোরীটির রক্তেও এইচআইভি সংক্রমণ হয়েছে কিনা, তা পরীক্ষা করা হচ্ছে।
হাসপাতালে কিশোরীটিকে দেখতে এসে নাটকীয়ভাবে ধরা পড়েছে ওই এইডস আক্রান্ত ধর্ষক।
দিল্লির লাগোয়া উত্তর প্রদেশের শহর গাজিয়াবাদের পুলিশ সুপারিন্টেনডেন্ট অজয় পল বলেন, “ওই কিশোরীর বয়ান অনুযায়ী বাবু নামের এক ব্যক্তি পশ্চিমবঙ্গের ডায়মন্ডহারবার এলাকায় স্কুল থেকে ফেরার পথে তাকে অপহরণ করে। তার পরে এক ব্যক্তির হাতে বিক্রি করে দেয় – যে কর্ণাটক, মানালি, পুনে সহ বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে গিয়ে পুরুষদের সঙ্গে যৌনসংসর্গে বাধ্য করতো। কিশোরীটি আপত্তি জানালে তাকে মারধর করা হত। যদিও ধৃত ব্যক্তি সব অভিযোগ অস্বীকার করছে, তবে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে, বিভিন্ন জায়গায় হানাও দেওয়া হচ্ছে”।

girl rape 1 the mail bd the mail bd
এই ভয়ঙ্কর নির্যাতনের ঘটনা সামনে আসে দিন কয়েক আগে, যখন দিল্লির একটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই কিশোরীর সঙ্গে কথা বলে তার বাড়ির ফোন নম্বর জানতে পারে।
তার পরিবার খবর দেয় পশ্চিমবঙ্গের ডায়মন্ড হারবার থানায়।
তদন্তকারী অফিসার সঙ্গে সঙ্গেই যোগাযোগ করেন দিল্লির একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে, যারা নারী ও শিশু পাচার চক্রের বিরুদ্ধে কাজ করে।
নয়াদিল্লীতে গত অক্টোবর মাসে চার বছরের একটি শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ সামনে এলে ব্যাপক বিক্ষোভ প্রতিবাদ হয়।
শক্তি বাহিনী নামের ওই সংগঠনটির প্রধান ঋষিকান্ত বলেন, “ওই কিশোরীর গোপনাঙ্গ থেকে শুরু করে হাঁটু পর্যন্ত সাংঘাতিক রকমের সংক্রমণ ছড়িয়েছে। ডাক্তারেরা বলছেন মেয়েটির শরীরে সেপটিক আর্থরাইটিস বাসা বেঁধেছে, যেটা বহুবার যৌন নির্যাতন করার ফলেই হয়ে থাকে। হাসপাতালে যখন ওই কিশোরীটিকে কোনও এক ব্যক্তি ফেলে রেখে পালিয়ে যায়, তার পর প্রথম তিন দিন কোনও চিকিৎসাই হয় নি। দিল্লি পুলিশেরও গাফিলতি ছিল। দিল্লি মহিলা কমিশনের চাপে পড়ে পুলিশ আর হাসপাতাল নড়েচড়ে বসে”।

girl rape 3 the mail bd
গত এপ্রিল-মে মাসে মি. ঋষিকান্ত পশ্চিমবঙ্গের পুলিশের কাছ থেকে খবর পান যে অপহরণের পরে ওই কিশোরীকে গাজিয়াবাদে রাখা হয়েছে, সে নিজেই ফোন করে পরিবারের কাছে খবর পাঠিয়েছিল। পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে অনেক জায়গায় হানাও দেওয়া হয়, কিন্তু তখন তার কোনও খোঁজ পাওয়া যায় নি।
তবে ওই সন্দেহভাজন ধর্ষক নাটকীয়ভাবেই ধরা পড়ে হাসপাতাল থেকেই।
মি. ঋষিকান্তের কথায়, “আমাদের মহিলা কাউন্সেলররা যখন একদিন সকালে ওই কিশোরীর সঙ্গে কথা বলছিলেন, তখন সেখানে এক ব্যক্তি আসে তার খোঁজ নিতে। তাঁকে দেখে সন্দেহ হওয়ায় আটকে রেখে পুলিশে খবর দেন ওই কাউন্সেলররা। পুলিশ জেরা করে জানতে পেরেছে যে ওই ব্যক্তিই কিশোরীটিকে অপহরণকারীর কাছ থেকে কিনে নিয়ে গত একবছর ধরে বিভিন্ন পুরুষের সঙ্গে যৌন সংসর্গে বাধ্য করিয়েছে। কিশোরীটিও ওই ব্যক্তিকে সনাক্ত করে।“
এটাও জানা গেছে যে ওই ব্যক্তি ২০১১ সাল থেকে এইডস আক্রান্ত। সে নিজেও কিশোরীটিকে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে।
এই ভয়াবহ যৌন নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত পাচার চক্রের সন্ধানে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় হানা দেওয়া শুরু হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here